মনভাষী পত্রিকা সংখ্যা : ০১    তারিখ : ১৫.১২.২০১৯



 

আজ শ্রাবনে
সুজাতা মিশ্র

মনে করো এই শ্রাবণ তোমার মনের আগুন

জ্বালিয়ে দিল আরো। চোখের পাতায় ধোঁয়া।

ক্যানভাসে ইচ্ছেরা এঁকে যাচ্ছে তোমার মন।

চোখ-ঠোঁট-বুক-চিবুক-গালে সর্বনাশা ছোঁয়া।

তুমি কি তবে পুড়বে খুব বর্ষা প্রেমের গানে? 

নাকি খোলা বোতাম বুকে হবে আলগা আদর?

শ্রাবণ রঙে মেঘ কুমারী হয়ে ভাসবে এলোচুলে

ধেনো গন্ধে ভিজবে সুর, 'ঝরঝর মুখর বাদর…'


শরতে বাংলা 
মোঃ ইজাজ আহামেদ
হে আমার বাংলা, তোমার কাছ থেকে বর্ষা কন্যা অশ্রুসজল চোখে 
বিদায় নেয়  মেঘ- রোদ্দুরের শ্রাবণে ।
ভাদ্রে সূর্যের মিষ্টি আলো তোমার প্রকৃতিতে 
স্পর্শ দিয়ে ঘোষণা করে শরৎ রানীর আগমন বার্তা ;
ঝকঝকে নীলাভ আকাশে
 শিমুল তুলোর মতো ভেসে যায় শুভ্র মেঘের ভেলা।
পাখিরা মহানন্দে মহাকলরবে ডানা মেলে মালার ন‍্যায় উড়ে যায় আকাশের নীল সীমানায়।
হে বাংলা,ভাদ্র আশ্মিনে তুমি হয়ে উঠো রূপময়;
চারদিকে সবুজ ও সাদার সমাহার 
প্রকৃতির সব কিছু মিলে মিশে একাকার
আকাশের নীল মিশে যায় 
মাটির সবুজে আর সাদায়।
সূর্যের নির্মল আলো, নির্মল হাওয়া;
সবুজ ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে ঢেউ খেলে যায় উদাসী হাওয়া।
 স্নিগ্ধ রৌদ্র স্নাত সকালে
 চাষীরা মাঠভরা হওয়ায় দোলা ধান দেখে
বুকে বাঁধে সুখের স্বপ্ন ।
নদীর তীরে, পথের ধারে হাওয়ায় দোলা
কাশফুল,নদী জলে ভেসে চলে মাঝিদের খেয়া,
রুপালি জলে ভেসে উঠে রুপালি পুঁটি, খোলসে চান্দা,
ঠোঁটে ছোঁ মেরে নিতে তাক করে থাকে মাছরাঙা,
নদীর তীরে চখাচখি,খঞ্জনা,ও অন্য পাখিদের কুঞ্জনও,
ভোরে শিশির ভেজা শিউলিফুলের সুগন্ধ 
সুরভিত বাতাস সবার মনে দেয় এক অনাবিল আনন্দ।
পুকুর,দীঘির জলে ফুটে শাপলা তারকার মতো,
দিনে ঝলমলে মিষ্টি রৌদ্র,
রাতে চাঁদের জ্যোৎস্নায় প্লাবিত
তোমার পথ ঘাট, মাঠ ঘাট, নদী নালা
হয়ে উঠে অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত;
হে রূপসী বাংলা,তোমার শরৎ রানী সকলের মনকে দেয় প্রফুল্লতার নাড়া।
হে রূপসী বাংলা, তুমি উৎসবে নতুন সাজে সেজে উঠো 
হে রূপসী বাংলা, তুমি নতুন সাজে উৎসব মুখরিত হয়ে উঠো।
তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে
কবিরুল
যখন ভোরাই সুরে বাউল মাঝি - 
     পাল তুলে দেবে নিরুদ্দেশের ঠিকানায়
            শিউলির প্রতিটি বৃন্তে
      লেপ্টে থাকবে শিশিরের প্রেমের চন্দন
 ,
      তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে!

   যখন নন্দন , একাডেমীর আনাচে কানাচে
ফুল গিয়ারে থাকবে নাটকের চর্চা -
 আর্ট গ্যালারীর ক্যানভাসের প্রতিটি রং  
 পাবে সিঁথির লাল বসন্তের সাধ , 
তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে!


 যখন স্তব্ধ হবে গানের পরিভাষা -
   ভীষণ ব্যথায় শিউরে উঠবে মন
       ধুলোর চাদরে মোড়া 
  গীতবিতানের পাতা লুকিয়ে কাঁদবে অভিমানে ,
তখন আমায় নাই বা মনে রাখলে! 
জীবন্মুক্ত
শ্যামল কুমার রায়
সব দায় ঝেড়ে ফেললাম আজ।
মুক্তি নিলাম,ঋণের ভারে
ন্যুব্জ হওয়ার থেকে।
কোথাও কৃতজ্ঞতার ঋণ,
কোথাও বা পিতৃত্বের ঋণ,
কোথাও বা মানুষ করার ঋণ।
ঋণের বোঝা শয্যাসঙ্গিনীর কাছেও,
সঙ্গসুখের ঋণ।
সব ঋণের ভার লাঘব আজ।
জীবন্মুক্ত হয়ে থাকাই শ্রেয়
স্বস্তি নেই তাও।
চির পরিচিত কন্ঠের আহ্বান-
অতি সংকীর্ণ অস্বীকারের পথ।
আবেগমথিত অনুভূতি সব
ঝাপসা হয়ে আসে দৃষ্টি।
 পুরুষ

শ্যামল কুমার রায়

পুরুষ, তুমি নির্যাতিত,বলতে এত ইতস্তত?
আত্মসমীক্ষা করার পালা,
নইলে যে এবার যাবি পাগলা!
আসলে তুমি চাপরাশি,
জোয়াল টেনে খুব খুশি!
দিতে দিতে তুমি আজ-
বাড়িয়ে দিয়েছো লোভ।
সামান্য কিছু না পেলেই-
তাই তো এত ক্ষোভ!
সব করেও সেই এক কথা-
কি করেছো, কি দিয়েছো?
জানি তোমায় বেঁধে ভীষণ,
ও তোমার তো আবার
চোখের জল ফেলা বারণ!
কারণ, অকারণ।
বড় জ্বালা তোমার!
স্ত্রীর কথা শুনলেই স্ত্রৈণ
ভালোবাসা এখানে বড়ই গৌণ।
না শুনলে বাবা - মার কথা
প্রতিদান যে যাবে বৃথা!
'তুমি চুপ করো'- শুনতে,শুনতে,
কান ঝালাপালা আজ।
অথচ তোমার কত দাপাদাপি-
সমাজে, কর্মস্থলে।
একছত্র, বাদশা তুমি,
ব্যর্থ তোমার কদর বুঝতে।
ফোঁস করলেই ডোমেস্টিক ভায়োলিন্স,
না করলে, বেশ সাইলেন্স!
পরকীয়াতেও নাইকো ছুটি
প্রেয়সী তোমার টিপছে টুঁটি।
পুরুষ তুমি ভাবো এবার,
শিবরাত্রিতে জাগো আবার।
শরৎ এলো
             শ্রী কান্ত মাহাত

শরৎ এলো
          কাশ ফুলে শিউলী ফুলে।
মিঠেল রোদে ভেসে বেড়ায দলে দলে।
সাদা মেঘের ভেলা ও ভাই সাদা মেঘের ভেলা।
চলে কত লুকোচুরির খেলা ও ভাই লুকোচুরির খেলা।
এরই মাঝে বাদ্য বাজে শুভ বার্তা নিয়ে।
আনন্দমোহন এখন বিশ্বভুবন।
তাই আনন্দময়ীর আরাধনায় মেতে উঠি।
খরায় জ্বলছে বানে ভাসছে।
তারি মাঝে মায়ের শোভা পাচ্ছে।
ধনী-গরিব সবাই মিলে
জাতপাতের বিভেদ ভুলে।
একই সুরে সুর মিলিয়ে
কদম কদম এগিয়ে চলি।
আন্ধার আলো গলিপথে
আলোর ঠিকানায়।
প্রণাম নিও মা গো মোদের
এর বেশি তো না কিছু চাই। 
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ‍্যাসাগরের প্রতি
মোঃ ইজাজ আহামেদ


হে বীর,তোমারে স্মরণ করে বলি,
তোমারে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি-
শিল্প সম্মত বাংলা গদ্য ভাষার প্রথম জনক তুমি,
বাংলা গদ্যের প্রথম সার্থক রূপকার তুমি,
তুমিই প্রথম বাংলা লিপির সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তুলেছ,
সংস্কৃত ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের দরুন বিদ্যাসাগর উপাধি পেয়েছো,
বর্ণ পরিচয় সহ অনেক বই রচনা করেছ,
রচনা করেছ সংস্কৃত, হিন্দি, ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ গ্রন্থ ।
তুমি শুধু শিক্ষাবিদই নও, তুমি একজন সমাজ সংস্কারকও;
তুমি অবির্ভুত হয়েছিলে কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এক যুগ সন্ধিক্ষণে।
তুমি দূর করেছ বিধবা বিবাহ, বাল‍্য বিবাহ, বহু বিবাহ;
স্ত্রী শিক্ষার প্রচলনে
তোমার নাম আজও স্মরণ করা হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে।
হে বাংলার নবজাগরণের দূত, আপামর দেশবাসীর কাছে
তুমি পরিচিত ছিলে দয়ার সাগর নামে।
 হে আধুনিক মানুষ, তুমি আজও বেঁচে আছো মানুষের হৃদয়ে। 
   


0
Created with Mozello - the world's easiest to use website builder.

 .