"সে প্রাণের কথা বাংলা দিয়েই চাইছিল

তার একটু শুধু, একটুখানিই সাধ ছিল। আর বাকিরা বাংলা যখন ভুল ছিল,

এমন চাওয়ায় তার কি বলো, দোষ ছিল?"
নলাইনে এবং অন্যত্রও, লেখালেখির গুণবিচার এই সহস্রাব্দে অনেকটা সোশ্যাল-মিডিয়ার ‘লাইক’-সাফল্যের উপর নির্ভর করে, আমরা না চাইলেও করে। তার উপরে রয়েছে আঞ্চলিক ভাষায় লেখালেখিকে দাবিয়ে রাখা ইংরিজি ভাষার ‘গ্লোবাল’ লেখাচর্চার ছক। রয়েছে ‘ক্রিয়েটিভ রাইটিং ল্যাব’-জাতীয় ঝাঁ চকচকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক খোপবদ্ধতা। রয়েছে ভাষার শুদ্ধতা নিয়ে চোখ রাঙ্গানো নিয়মবিধি। এসবই, সহজেই, অনেক লেখাকে, এবং তার পিছনে থাকা অনেক রক্তমাংসের মানুষকে তার সমস্ত ‘ক্ষমতা’-‘অক্ষমতা’ সমেত নির্দ্বিধায় বাজে কাগজের ঝুড়িতে ফেলে দেয়। শুধু পত্রিকায় লেখালেখির সূত্রে নয়, জীবিকার ক্ষেত্রে, সাহিত্য-শিল্প-বিজ্ঞান সমস্ত ক্ষেত্রেই কথাটা সত্যি। মনভাষী পত্রিকা স্বল্প সামর্থ্য নিয়েই, এই সহজে ছুঁড়ে ফেলার নিয়মটার বিপরীতে দাঁড়াতে চেয়ে শুরু করেছিলো পথ চলা মুর্শিদাবাদবাসী শ্রী অজয় কুমার দে মহাশয়ের হাত ধরে সাথী  ছিলেন কেবল মাত্র নিজের স্ত্রী শ্রীমতি সুপ্রিয়া দে মহাশয়া ।  চেষ্টা ছিল লেখক-সম্পাদক ভেদ বস্তুটার বিরুদ্ধে যথাসম্ভব লড়াই করে সাহিত্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি সমান উৎসাহে মানবিক সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব গড়ে তোলার। প্রবন্ধ-গল্প-কবিতা মিলিয়ে লেখালেখিকে একটা বিস্তৃত স্পেকট্রামে ধরতে, বুঝতে। পত্রিকাকে কেন্দ্র করে একটা পাকাপোক্ত সমমনস্ক গোষ্ঠী গড়ে তুলতে । চেষ্টা ছিল, মহিলা লেখক-সম্পাদকদের সাথে বিশেষ ভাবে যোগাযোগ গড়ে তোলার, আমাদের লিঙ্গায়িত সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে ‘লেখা’ – এই রাজনৈতিক কাজটিকে শুধু প্রবন্ধের আকারে নয়, গল্প-কবিতার আকারেও বিশেষ ভাবে ধরার।চেষ্টা ছিল অন্যান্য ছোট পত্রিকা পড়ার, তাদের যাত্রাকে নিজেদের যাত্রার পাশাপাশি একটা ঘনিষ্ঠ জায়গায় রাখতে চাওয়া । যে-যে চাওয়া বা চেষ্টা নিয়ে  মনভাষী শুরু হয়েছিল, গত দুই বছরে তার ভিতর কিছু-কিছু হয়তো অল্পবিস্তর ছোঁয়া গেছে, চাওয়াগুলো জটিল। কিছু-কিছু ছোট সমস্যা রয়েছে।সারা বিশ্ব জুড়ে থাকবে মনভাষী পরিবারের সদস্যরা।
0
Created with Mozello - the world's easiest to use website builder.

 .